শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ১০:৪২
Home / কওমি অঙ্গন / ‘হ্রদয়ে কওমি মাদরাসা’ এ তো প্রার্থনার কবিতা

‘হ্রদয়ে কওমি মাদরাসা’ এ তো প্রার্থনার কবিতা

শামসীর হারুনুর রশীদ

“হ্রদয়ে কওমি মাদরাসা” বইখানি বন্ধুবর আবুল কালাম আজাদের কল্যাণে হাতে পেলাম। লেখক শুরুর আগে মানে? তাঁর ভূমিকায় নিজের উদ্দেশ্য জানান দিতে বলেছেন- একবিংশ শতাব্দীর চুড়ান্ত প্রস্তুতি ও সম্ভাবনাময় উম্মাহর স্বপ্নীল আগামী বিনির্মাণে কওমি ভূমিকার আবশ্যকতাকে বেগবান করা। লেখক যা চেয়েছেন যথার্থ বলতেও পেরেছেন। আমি বেশ ক’পৃষ্ঠায় চোখ বুলিয়ে তাঁর কথা ও বিষয়গুলোকে দরদমাখা সুরে উপস্থাপনার ভঙ্গিমাকেই বলছি প্রার্থনার কবিতা। তিনি এ বলয়ে আতশ কাচের আলো ফেলে বিচার-বিশ্লেষণ দাড় করিয়ে চেয়েছেন ক্রটিবিচ্যুতির সংশোধনী। দিয়েছেন তাঁর মতো করে সহায়ক পরামর্শ ।

ব্যতিক্রমী এ বইটি লিখেছেন খতিব তাজুল ইসলাম। খুব কাছ থেকে তাকে না দেখলেও দূর থেকে দেখেছি কাছাকাছি। সহজ কথায়- সময়ের এক সাহসী সন্তান, কোমল হ্রদয়ের অধিকারী, লেখক, গবেষক, চিন্তুক, খতিব এ আলেম আমাদের কল্যাণকর মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বস্ত এক তরুণ। থাকেন লন্ডনে। চিন্তা তাঁর নাড়িভিত্তিক।
কওমি মাদরাসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, কখনও নিরবে, কখনও স্বরবে। করছেন গবেষণা। তাঁর এ বইটি দৃষ্টিবানদের অবশ্য নাড়া দিবে। চিন্তুকদের যোগাবে নিত্য-নতুন খোরাক।
বইটিতে উপস্থাপনকৃত সব বিষয়ের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত না হলেও তাঁর এই গবেষণামূলক কাজের স্বীকৃতি অবশ্যই দেয়া দরকার।
প্রযুক্তির কল্যাণে তাঁর সাথে কিছু দূরালাপনী হলেও আন্তরিকতা পূর্ণ মাত্রায় জমেনি যে, তা বিলকুল সত্য।
খতিব তাজুলের বইটি মৌলিক একটি গ্রন্থ। যাঁরা পড়েন নাই, আজই সংগ্রহ করুন। এক মজলিশে পড়ুন। বারবার পড়ুন।

যা-হোক দীর্ঘ বিরতির পর কওমি অঙ্গন থেকে এমন কিছু তরুণ তৈরি হচ্ছে, যাঁরা তখনের দেওবন্দি চিন্তার সাথে নিজেদের চিন্তাকে মাপঝোখ করতে সক্ষম হচ্ছে। তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াবার পথ খোঁজতে শুরু করেছে আল্লাহর রহমতে। ইনশাআল্লাহ একদিন দাঁড়াবেই।

তাজুল বইটিতে তাঁর হ্রদয়ের উচ্চাসন থেকে যে সব বারুদের অবতারণা করেছেন তা বর্তমানের কওমি মাদরাসাগুলো গ্রহণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট মহল স্ট্রোক করার সম্ভাবনা প্রবল! পাঠকও বইটি পড়ে কূপের ভেতর সমুদ্র আবিষ্কারের চিন্তায় যদি লেগে যায় তো এ দায়ভার কার?
যদিও লেখকের উদ্দেশ্য খুবি মসৃণ ও যথার্থ ।
কারণ বাংলাদেশে এসব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একটি প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

তাই আপনার চিন্তার লোকদের নিয়ে প্রথমে একটি গভর্নিং বডি ও ফান্ড তৈরি করা দরকার। অতপর শহর ভিত্তিক বড় বিল্ডিংয়ের একটি মাদরাসায় অনার্স সিস্টেমে ক্লাস চালু করতে পারলে আপনার পরামর্শ- উদ্দেশ্য ও লিখনি বাস্তবায়নে তেমন সময় লাগবে না আশাকরি।

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

নুসরাত হত্যাকান্ডের ধারাবাহিক রিপোর্ট!

পিবিআই ব্রিফিং ১৩ এপ্রিল ঢাকা: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ...