মঙ্গলবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ রাত ৮:১১
Home / আকাবির-আসলাফ / দেওবন্দের অবদান বিশ্বময়; মসজিদে নববীর শায়খ ড. হামিদ আকরাম আল বুখারী

দেওবন্দের অবদান বিশ্বময়; মসজিদে নববীর শায়খ ড. হামিদ আকরাম আল বুখারী

গতকাল [৩১ জানুয়ারি। মঙ্গলবার] বাদ মাগরিব দারুল উলুম দেওবন্দের মসজিদে রশিদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বয়ান করেন দেওবন্দ সফরে আসা মসজিদে নববীর ‘কিসমুল হাদিসে’র প্রধান শায়খ, ড. হামিদ আকরাম আল-বুখারী!

দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষার্থী হাওলাদার জহিরুল ইসলাম অনূদিত বয়ানটি আওয়ার ইসলামের সৌজন্যে কমাশিসার পাঠকদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হল-

হামদ ও সালাতের পর দেওবন্দ সফরের আনন্দ প্রকাশ করে শায়খ বলেন, “দেওবন্দ সফর আমার জন্য খুবই সৌভাগ্যের মনে করছি৷ আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই ইলমের মহান মকবুল এদারায় আসতে পেরে৷ আমি রাসুলের সা. শহর থেকে এসেছি৷ আপনাদের প্রতি দীনি মুহাব্বত আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে৷ ইসলামের শে’আর-নিদর্শনের মধ্যে ‘আল হুব্বু ফিল্লাহ ওয়াল বুগযু ফিল্লাহ’ও একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন৷ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই৷’ ইসলামে আরব-আজম, সাদা-কালো, ধনী-গরিবের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই৷ সবাই ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ কালিমার ভিত্তিতে একতাবদ্ধ, পরস্পররকে মুহাব্বতকারী৷”

এর পর তিনি ইলমের ফজিলত বর্ণানা করতে গিয়ে বলেন, “আসলে ইলম কী? ইলম হলো এমন বস্তু যা মানুষের ভেতর-বাহির সবই সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলে৷”

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রশংসা করে শায়খ বলেন, “এটি হলো ইলমের সুউচ্চ মিনার৷ এই জামিয়াটি (দেওবন্দ) ‘তুবা’ বৃক্ষের অনুরূপ৷ যেমন রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের একটি বৃক্ষের ছায়া এতো বিস্তৃত হবে যে কোনো মুসাফির একশ’ বছর সফর করেও তার ছায়া শেষ করতে পারবে না৷’ পৃথীবিতে ওই বৃক্ষের দৃষ্টান্ত হলো এই জামিয়া! এটি সেই বৃক্ষ যার বীজ বপন করেছিলেন মাওলানা কাসেম নানুতাবী রহ. এরপর এই বৃক্ষের ডালপালা দেশ-বিদেশে পুরো পৃথীবিতে ছড়িয়ে পড়েছে৷ বর্তমান পৃথীবির এমন কোনো দেশ নেই যেখানে দেওবন্দের কোনো সন্তান (আলেম) নেই৷ সরাসরি দেওবন্দের ফারেগ আলেম না থাকলেও দেওবন্দী আলেমের ছাত্র রয়েছে৷ হারামাইন শরিফাইন, মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেওবন্দের সন্তানেরা ছড়িয়ে আছে৷ কেবল মুসলিম রাষ্ট্রেই নয় অমুসলিম রাষ্ট্রেও যেমন, ব্রিটেন, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, এঁরা রয়েছে৷ এসব দেশের মুসলমানদের ওপর দেওবন্দের অশেষ অবদান রয়েছে৷

শায়খ বলেন, “আমরা এই মাদারাসাকে নিয়ে গর্ব করি, ঈর্ষা করি৷ রাসুল সা.বলেন, দুই জিনিসের মাঝে ঈর্ষা করা যায়৷ এক, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ অঢেল সম্পদ দিয়েছেন৷ আর সে তা থেকে সঠিক পথে দান করে৷ দ্বিতীয়, যাকে আল্লাহ পাক হিকমা-ইলম দিয়েছেন৷ সে নিজে আমল করে এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দেয়৷ এই জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও পরবর্তী শায়খগণ দীনি ইলম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আপ্রাণ মেহনত-মুজাহাদা করেছেন৷”

হে জামিয়ার সন্তানেরা! আমরা পৃথীবিতে প্রেরিত হয়েছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে৷ আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে সে অনুযায়ী আমল করা৷ যারা ঈমান আনে না ও নেক আমল করে না তারা মৃত সদৃশ৷ যদিও তারা খায় ও পান করে৷ আর যারা ঈমান আনে, নেক আমল করে তারা চিরঞ্জীব৷ যদিও তারা মাটির নিচে(কবরে) থাকে৷ রাসুল সা. বলেছেন, মানুষ যখন ইনতেকাল করে তখন ৩টি আমল ব্যতীত তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়৷ ১, দকায়ে জারিয়া৷ ২, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়৷ ৩, এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে৷ এই জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতাগণ ৩ টি কাজই করে গেছেন৷”

“এই জামিয়ার আকাবিরগণ ‘রফিকে আ’লা’র ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তারা আজও জীবিত! তাদের আমল এখনও জারি আছে৷
এই জামিয়া একটি মহান সদকায়ে জারিয়া৷ কিয়ামতঅবদি এর আকাবিরগণ সাওয়াব পেতেই থাকবেন৷ আমি দোয়া করি যতো দিন আসমান যমিন বাকি থাকবে ততো দিন এই জামিয়াও বাকি থাকুক৷ একজন কালিমাওয়ালা জীবিত থাকা পর়্যন্ত এই জামিয়া কায়েম থাকুক৷”

শায়খ হামিদ বলেন, “রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে সৎ কাজের প্রতি আহ্বান করবে সে ওই সৎকর্মকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে৷ রাসুল সা. আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো কাজের সূচনা করে সে তার সাওয়াব পায় যারা সেই ভালো করে তাদের সাওয়াবের একটি অংশও সে ব্যক্তি পায়৷”

এরপর শায়খ বলেন, “আমি উলামায়ে দেওবন্দের এই মজলিসে এসে নিজেকে ধন্য মনে করছি৷ আমি নিজেকে একজন ছাত্র হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করি৷ ইলমি নিসবতে আমিও একজন ‘কাসেমি৷’ রাসুল সা.বলেন, আল্লাহ তায়ালা, ফেরেশতাগণ, আসমান ও যমিনবাসী এমন কি সমদ্রের মাছ ও গর্তের পিপিলাকা পর্যন্ত তালিবে ইলমের জন্য দোয়া করে থাকে৷ আর এই তালিবে ইলম-উলামাগণই নবীর ওরাসাতের অধীকারী৷ যেমন নবীজী হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘একমাত্র উলামাগণই নবীদের ওয়ারিস৷’ আপনারা তো সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যাদের ব্যাপারে কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘বলুন যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি কখনো (মর্যাদায়) সমান হতে পারে?”

“আল্লাহ তাআয়ালা আপনাদের মর্যদা সমুন্নত করেছেন৷ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার ও জ্ঞান(ইলম) প্রাপ্ত আল্লাহ তাদের মর্যদা সুউচ্চ করেছেন৷”

শায়খ বলেন, “উম্মতের জন্যে আপনাদের অনুসরণ-অনুকরণকে আবশ্যক করেছেন৷ ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের যদি কোনো বিষয় না জানা থাকে তবে উলামাদের (আহলে জিকর) কাছে জিজ্ঞেস করো৷’ তিনি আরো ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ তোমারা আল্লাহ, রাসুল এবং উলুল আমর’র আনুগত্য করো৷ মুফাসসীরিনে কেরাম ‘উলুল আমরে’র অর্থ করেছেন উলামায়ে আহলে হক৷”

এভাবে শায়খ আরো কিছু নসিহত করেন৷ শেষে দীর্ঘ মোনাজাতের মাধ্যমে মজলিস শেষ হয়৷ অত্যন্ত আবেগভরা কণ্ঠে শায়খ হামেদ আকরাম আল-বুখারি মোনাজাত পরিচালনা করেন৷ দেওবন্দ, আকাবিরে দেওবন্দ, বর্তমান ছাত্র-শিক্ষক, এলাকাবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন৷ এ সময় আমিন আমিন রবে পুরো মসজিদে রশিদ মুখরিত হয়৷

দেওবন্দের সিনিয় উস্তাদ মুফতি আরিফ জামিল সাহেবের সঞ্চালনায় মজলিসের শুরুতেই কুরআন তেলাওয়াত করা হয়৷ হামদ-না’ত পরিবেশন হয়৷ এবং মসজিদে নববীর দুই শায়খ ডা. হামিদ আকরাম বুখারী ও ড. আমের বিন মুহাম্মাদ’র প্রশংসায় একটি আরবি নাশিদ পরিবশন করা হয়৷ নাশিদ পরিবেশনের পর শায়খ ড.আমের মুহাম্মদ সংক্ষপ্ত নসিহত করেন৷ এরপর শায়খ হামিদ বুখারি আধা ঘন্টাব্যাপী মূল মূল্যবান নসিহত পেশ করেন৷

ইআম

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

ইদলিবের মাধ্যমেই সিরিয়ার বিজয় সুচিত হবে ইনশাআল্লাহ!

ইদলিবে শিয়া মুনাফেক রুশ কাফেরদের এক কথায় তুলাধুনা চলবে……. প্রস্তুত তুরস্কের নৌবাহিনী সেনাবাহিনী বিমানবাহিনী। ইতিমধ্যেই ...