সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:০৭
Home / অনুসন্ধান / ট্রাম্পের বিজয়, মৌদির ক্ষমতা লাভ ও আওয়ামী লীগের কওমি সনদের স্বীকৃতি একই সূত্রে গাথা!

ট্রাম্পের বিজয়, মৌদির ক্ষমতা লাভ ও আওয়ামী লীগের কওমি সনদের স্বীকৃতি একই সূত্রে গাথা!

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ ::

১. গতকাল আমেরিকার নির্বাচনে কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান মৌলবাদ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি উগ্র বক্তব্য দিয়ে খ্রিষ্টসমাজের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকি অনন্য ধর্মের প্রতি আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে তাকে প্রমাণ করতে হয়েছে তিনি একজন কট্টর মৌলবাদী আমেরিকান। এতে করে আমেরিকার মূলধারার মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা হুহু করে বাড়তে থাকে। অপরদিকে হিলারির উদারনীতি আমেরিকান খ্রিষ্টানদের ভাল লাগে নি। বিশ্বব্যাপি ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ক্রমবর্ধমান শক্ত অবস্থান ও জনপ্রিয়তার কাছে পরাজিত হতে হয় হিলারি ক্লিনটনকে।কারন আমেরিকা কতোটা মৌলবাদী তা প্রমাণ করে ১১৭ বছর আমেরিকাতে নারীরা ভোটাধিকারই পায় নি। আমেরিকার সেই কট্টর রক্ষনশীলতা ভেঙ্গে নারী প্রেসিডেন্ট হওয়া সহজ কোন বিষয় ছিল না। যদিও ইসরাইলি মিডিয়াসহ বিশ্বের গনমাধ্যম হিলারির পক্ষে ছিল। কিন্তু সর্বশেষে সেখানে মৌলবাদ নীতিরই জয় হয়েছে।

২. আমাদের পাশবর্তী দেশ ভারতে বর্তমান ক্ষমতায় একই সূত্রে কট্টর মৌলবাদী দল বিজিপি। নরেন্দ্র মৌদির নানান উগ্রপন্থা ও মৌলবাবদী বক্তব্য তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিল। বিশ্বব্যাপি মৌলবাদের যে উত্থান তার ক্রমবর্ধমান ধারায়ই হিন্দু মৌলবাদি নরেন্দ মৌদির ভারতে ক্ষমতাগ্রহণ ও খ্রিষ্টান মৌলবাদি নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেট হওয়া। এখন পর্যন্ত ভারতের মূলধারার সমাজকে খুশি করতে নরেন্দ্রমৌদি সরকার মাঝে মাঝে সেই মৌলবাদী কাজগুলো করে হিন্দুদের খুশি করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে চায়। সম্প্রতি ভারতে মুসলিম তিন তালাক আইন রহিতের প্রচেষ্টা ও অভিন্ন দেওয়ানী আইন সেই সাম্প্রদায়িক চিন্তা কট্টরপন্থী কাজের একটি। দেশে দেশে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য এবং রাজনীতিকে স্থায়ী অবস্থানে ধরে রাখতে এখন সবচেয়ে বড় কৌশল হল দেশের মূলধারাকে খুশি রাখা, ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ও মৌলবাদি ধারার সাথে লিয়োজো করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করা। যা ভারত ও আমেরিকাতে আমরা লক্ষ্য করেছি।

৩. ভারত আমেরিকার মতো রাজনৈতিক নতুন এই কৌশলে বাংলাদেশ সরকারও কাজ করছে বলে বিশ্লেষক মহল মনে করছেন। দেশের মূলধারাকে খুশি করে এবং তাদের সাথে লিয়োজো ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার কৌশলকে বেচে নিচ্ছে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। কারন বাংলাদেশের ৮৫ভাগ মানুষ ধর্মীয় ও সামজিকভাবে এদেশের কওমি আলেমদের পছন্দ করেন। দেশের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট তাদের কথার দ্বারা প্রভাবিত হন। হেফাজতের উত্থান তার বড় প্রমাণ। তাই সরকার সেই মূলধারার আলেম উলামাদের খুশি করতে এবং ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে সাথে নিয়ে কাজ করতে বেশ তৎপর। এই একই সূত্র ধরে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি’ দিতে সরকার আন্তরিক। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘আলেমদের যে কোন শর্ত মেনে তারা স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত’। এর বড় কারন দেশের মূল স্রোতধারার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার কৌশলকে আরো পাকাপোক্ত করা। সরকার মনে করছে কওমি সনদের স্বীকৃতি হলে দেশের বড় একটি ধর্মীয় চেতনার মানুষদের খুশি করা সম্ভব হবে। আর আলেমরাও চাচ্ছেন বিএনপি আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব প্রর্থক্য নেই। যার কাছ থেকে নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার হাসিল করা যায়, আদায় করে নেয়া ভাল। বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বা সাথে নিয়ে রাজনীতি সুরক্ষার সুক্ষ্মদর্শী যে কৌশল, ভারত আমেরিকা বাংলাদেশ বা বিজিপি, রিপাবলিকান ও আওয়ামী লীগের কৌশল বর্তমান সময়ে এসে একই সূত্রে গাথা বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।

লেখক : সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

প্রশ্নপত্র ফাঁস সমাচার, বেফাক ও হাইয়ার দ্বায়!

খতিব তাজুল ইসলাম: কলামের শুরু এবং শেষ নিয়ে বেশ বিব্রতে আছি। পুরাটাই আগুছালো অবস্থা। স্বকীয়তার ...