সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সকাল ১১:২২
Home / আকাবির-আসলাফ / খতিব উবায়দুল হক : জীবন ও কর্ম

খতিব উবায়দুল হক : জীবন ও কর্ম

mobnuসৈয়দ মবনু:

মৃত্যু সংবাদ!
অন্য মনস্ক ছিলাম তখন, একেবারে অন্য মনস্ক। দৈনিক সিলেটের ডাক অফিস থেকে মোবাইলে যখন জানতে চাওয়া হলো, খতিব সাহেবের কোন খবর জানি কি না? তখন আমি অন্য মনস্ক ছিলাম। না, আমার কোন খবর জানা নেই। মৃত্যু সংবাদ হুট করে দিতে নেই ভেবে হয়তো সিলেটের ডাকের নুর আহমদ আমাকে কোন খবর দিলো না, শুধু বললো বিশেষ সূত্রে তারা জেনেছে-খতিব সাহেব খুব অসুস্থ। আমি যেনো একটু খবর নিয়ে তাদেরকে জানাই। নুর আহমদের এতটুকু কথাই আমার অনুভূতির অর্ধেক নাড়িয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটে গেছে। দ্রুত সুবিদবাজারে ফোন করে জানতে পারি খতিব সাহেব আর বেঁচে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে এগারোটা কিংবা বারোটা। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাত সোয়া এগারোটায়। সেদিন ছিলো শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০০৭। ২১ আশ্বিন ১৪১৪ বাংলা। ২৩ রমজান ১৪২৮ হিজরি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৭৯ বছর ৫ মাস।

জন্ম, পরিবার, গ্রাম
সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের সর্ব উত্তর-পূর্বাংশের যে ভূমিতে ভারতের কাছাড় এবং বদরপুর ভেদ করে বরাক নদী উত্তরে সুরমা আর দেিণ কুশিয়ারা নামে খ্যাতি লাভ করেছে, সেই সবুজে ঢাকা গর্ব করার মতো ঐতিহ্যবাহী গ্রাম- বারঠাকুরিতে ১৩৩৫ বাংলার ১৪ বৈশাখ মোতাবেক ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের ২ মে শুক্রবার উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের জন্ম। ‘বারঠাকুরী’ নাম থেকেই বুঝা যায় এই গ্রামের ধর্মিয় ঐতিহ্য প্রাচীন সময়ের। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানীয় গায়বি দীঘির উত্তর পশ্চিম কোণে মসজিদ নির্মাণের জন্য মাটি খনন কালে আট ফুট প্রস্থ নকশি ইটের তৈরি একটি দেয়াল এবং ৩ ফুট লম্বা ও ১ ফুট প্রস্থ একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যার এক দিকে আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে মসজিদ সংক্রান্ত হাদিস এবং অন্য দিকে গৌতম বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে। শিলালিপিটি সিলেট কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে সংরতি রয়েছে। আবিষ্কৃত দেয়াল, হাজার বছরের পুরাতন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন। আর শিলালিপিতে মসজিদ সংক্রান্ত হাদিস আর গৌতম বুদ্ধের মূর্তি পাশাপাশি থাকা থেকে গবেষকরা মনে করেন এই অঞ্চলে মুসলমানদের আগমনপূর্ব সময়ে বৌদ্ধদের প্রভাব ছিলো এবং মুসলমানদের আগমনের পরও দীর্ঘদিন তারা একত্রে বাস করেছেন। হিন্দু পুরোহিতদের মতো বৌদ্ধরাও ধর্মগুরুদেরকে ‘ঠাকুর’ বলে থাকেন। ‘বারঠাকুরী’ নামকরণ যে বৌদ্ধ ঠাকুর থেকে, তার প্রমাণ হিসেবে গবেষকরা গায়বি দীঘিতে প্রাপ্ত শিলালিপির কথা বলে থাকেন। এই গ্রামের গায়বি দীঘির প্রচুর কেরামতি এখনও স্থানিয় মুরব্বিদের মুখে শোনা যায়। মিথলজি বলেন আর সত্য, সবই নিজেদের বিশ্বাসের ব্যাপার। যেমন, বারঠাকুরী গ্রামে এখনো অনেকে বিশ্বাস করেন, ‘অনেক আগে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের কোন অনুষ্ঠানাদি উপলে হাড়ি-পাতিল প্রয়োজন হলে গায়বি দীঘি থেকে পাওয়া যেতো। অনুষ্ঠান শেষে তা দীঘির পাড়ে রেখে দিলে আবার চলে যেতো। একবার কেউ একজন একটি থালা ফেরৎ না দেওয়ায় এই দীঘির অলৌকিক ঘটনা বন্ধ হয়ে যায়।’ সে যাই হোক, এই গ্রামে এক সময় হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ বারোজন ঠাকুরের বসতি ছিলো এবং ওদের থেকেই এই গ্রামের নাম বারঠাকুরী। ‘জকিগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ গ্রন্থের তথ্যানুসারে ইসলাম প্রচারের প্রথম দিকে এই অঞ্চলের বারোজন বৌদ্ধ ঠাকুর এক সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ছিলেন বলে এই গ্রামের নাম বারঠাকুরী।(কিংবদন্তী এবং নামকরণ, পৃষ্টা-৩৩৫)। বর্তমানে সিলেট জেলার সবচেয়ে বেশি আলেম অধ্যুষিত এলাকা জকিগঞ্জ-কানাইঘাট। বলা হয়ে থাকে, এই অঞ্চলের আলেমরা যাকে নির্বাচনে সমর্থন করেন তিনিই নির্বাচনে সফল হয়ে থাকেন। গ্রাম ভিত্তিক আলেমের সংখ্যা হিসেব করলে বারঠাকুরী গ্রামে এখনও অধিকাংশই আলেম। খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের পূর্বেও এই গ্রামের ইতিহাসে আমরা দেখেছি সিলেটী নাগরী ভাষার কবি সুফি মাওলানা মোহাম্মদ সেলিম ওরফে শিতালংশাহ (র.) এবং হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি (র.)এর আধ্যাত্মিক খলিফা ও উপমহাদেশের খ্যাতনামা শায়খুল হাদিস আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরী (র.)এর হাদিসের শিষ্য মাওলানা জহরুল হক(র.) সহ এমন অনেক খ্যাতনামা আলেমের জন্ম এখানে। তবে খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের মতো অন্য কেউ দেশ-বিদেশে এতো সাড়া জাগাতে পারেননি। অবশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আজও এই গ্রামে সাহিত্য প্রেমিক শেকড় সন্ধানি আর ভক্তবৃন্দ আসেন শিতালংশাহের মাজারে। মাওলানা জহরুল হক হলেন খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের পিতা। তিনি ১৩৩৫ হিজরিতে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে হাদিসের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে ১৩৩৬ হিজরিতে হাকিমুল উম্মাত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র.)এর কাছ থেকে খেলাফতি লাভ করেছিলেন। খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের পিতা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বাংলাদেশে- জহরুল হক’ নামে পরিচিত হলেও নিজ এলাকা জকিগঞ্জের লোকেরা তাঁকে জানতেন-উরফিজ আলী মৌলভী’ নামে। স্থানীয় মুরুব্বীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় ‘উরফিজ আলী মৌলভী’ তাঁর সময়ে অনেক কিংবদন্তির জনক এবং বড় আলেম ছিলেন। এখনও গ্রামের প্রবীণদের কাছে তাঁর অনেক কেরামতির কথা শোনা যায়। মাওলানা জহরুল হক ওরফে উরফিজ আলী মৌলভী সম্পর্কে মাওলানা তাজুল ইসলাম আউয়াল মহল লিখেছেন-‘তিনি এতোই তাক্বওয়া সম্পন্ন বুজুর্গ ছিলেন যে নিজ খরচে যাতায়াত ও খানা সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ-নসিহত করে সমাজে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা যুগ যুগ ধরে আগত বংশধরদের প্রেরণা যোগাবে। এ আল্লাহর ওলী আত্মপ্রচার বিমূখ রাহেলিল্লাহের এক নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সমসাময়িক কালের এক যুগ সংস্কারক।’(ইসলামী রেনেসাঁয় অনন্য যাঁরা, পৃষ্টা-১০১)। ১৩৬৪ হিজরিতে মাওলানা জহরুল হক (র.) ইন্তেকাল করেন। গায়বি দীঘি আর ত্রি-নদীর মিলন কেন্দ্রের মধ্যখানে একটি জাম গাছের নীচে তাঁর কবর রয়েছে। মাওলানা জহরুল হকের পিতা ছিলেন মুন্সী উমীদ রেযা এবং দাদা আদেল রেযা। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে আমরা বলতে পারি, খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের মা মুসাম্মাৎ আয়েশা বেগম একজন অত্যন্ত পরহেজগার, কর্তৃত্বশীলা, পর্দানশীলা এবং সুন্দরী মহিলা ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে খতিব সাহেব ছিলেন দ্বিতীয়, প্রথম ছিলেন মাওলানা আহমদুল হক ছিলেন একজন প্রবীণ গ্রন্থ ব্যবসায়ী। সিলেট শহরের জিন্দাবাজারে স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে দীর্ঘদিন আশরাফিয়া কুতুবখানা নামে তাঁর একটি বইয়ের দোকান ছিলো। তৃতীয় ছেলে মাওলানা আব্দুল হক। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিকের দায়িত্ব পালন করে অবসর নেওয়ার পর বর্তমানে একটি কওমী মাদ্রাসায় হাদিসের শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। মুসাম্মাৎ আমাতুল্লাহ, মুসাম্মাৎ সাঈদা, মুসাম্মাৎ আবিদা এবং মুসাম্মাৎ হামিদা এই তাঁর মোট চার বোন।সিলেট থেকে জকিগঞ্জ যাওয়ার পথে মূল রাস্তার ডান দিকে শিতালং শাহের মাজার এবং বাম দিকে খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের জন্ম ভূমি বারঠাকুরী গ্রাম। এই গ্রামের নামেই বর্তমানে গোটা ইউনিয়নের নাম ৭ নং বারঠাকুরী ইউনিয়ন।khatib-ubaidul-haque
খতিব সাহেবের শিক্ষা জীবন খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের পিতা মাওলানা জহরুল হক দেওবন্দ থেকে দেশে ফিরে প্রথম কয়েকদিন ঢাকায় মাওলানা মুফতি দীন মুহাম্মদ (র.) এর প্রতিষ্ঠিত বেগম বাজার মসজিদ সংলগ্ন ক্বাসিমুল উলূম মাদ্রাসায় শিকতা করেন। পরে মুফতি দীন মুহাম্মদ বার্মায় চলে গেলে মাদ্রাসায় কিছু অনিয়ম দেখা দিলো। তখন খতিব সাহেবের বাবা গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জের বারঠাকুরীতে চলে আসেন। এই সময় কিছু ছাত্রও তিনির কাছে আসেন প্রাইভেট পড়ার জন্য। তিনি গ্রামের মসজিদের বারান্দায় ওদেরকে পড়াতে শুরু করেন। পরবর্তিতে তা মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়। অতঃপর তিনি মসজিদের দণি পাশে একটা ছন-বাঁশের ঘর তৈরি করেছিলেন বাইরের ছাত্রদের থাকার জন্য। খতিব সাহেবের নিজের ভাষ্যমতেÑ‘ঐ সময় আমরার কিছু সুদবুদ হইছে, ওনিই পড়াইছেন আমাদেরকে। ঐ মসজিদে থাকিয়াই আমরা কোরআন শরিফ পড়ছি। এরপরে উর্দু, ফার্সি প্রাথমিক কিতাবাদি কিছু পড়ছি। একবার আমাকে পাঠশালা স্কুল, বাবুর বাড়ি, নিজ গ্রাম, বারঠাকুরী সংলগ্ন, ওখানে পাঠাইলেন এবং বললেন যে, তুমি স্কুলে কিছু পড়, প্রাথমিক শিা লাভ করো। আমি ঐখানে গেলাম। বাবুর বাড়ির স্কুল, মাষ্টার-শিক তারা খুবই মেধাবি এবং যোগ্য কিন্তু তাদের আচরণ ছিলো হিন্দুয়ানী। যেমন, সালামের জায়গায় আদাব, মাথা নত করা ইত্যাদি আমার পছন্দ লাগলো না। আসিয়া আব্বাকে বললাম যে, ঐখানেতো সালাম-সুলামের নিয়ম নাই, শুধু আদাব-উদাব এইসব কথা-বার্তা। আমারতো ইচ্ছা করে না যাইতে। তিনি বললেন-তবে আর যাইয়ো না। ঐ শেষ আমার স্কুলের পড়া। দু-একদিন মনে হয় গেছিলাম, এরপরে আর না। আরো কিছু আব্বার কাছে পড়ার পর বয়স যখন আট-দশ কিংবা এগারো বছর হয়েছে তখন আমাকে পাঠাইদিলেন ঘুংগাদি, মাওলানা আতহার আলী সাহেবের বাড়িতে মাদ্রাসায়।’ মোটকথা খতিব মাওলানা উবায়দুল হকের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নিজ বাড়িতে পিতার কাছে। এরপর তিনি সিলেটের বিয়ানিবাজার থানার অন্তর্গত ঘুংগাদি গ্রামে হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি (র.)এর খলিফা মাওলানা আতহার আলী (র.) প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় চলে যান। উল্লেখ্য যে, মাওলানা আতহার আলী(র.) কিশোরগঞ্জি বলে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করলেও মূলত তাঁর বাড়ি সিলেটের বিয়ানিবাজারের ঘুংগাদি গ্রামে। ঘুংগাদি মাদ্রাসায় তখন একজন শিক ছিলেন জকিগঞ্জের মাওলানা শামসুল হক (র.) শাহবাগি। খতিব সাহেব তিনির কাছে ফার্সি, মিজান-মনশাইব ইত্যাদি প্রাথমিক কিছু কিতাব পড়েন। দুই বছর ছিলেন তিনি ঘুংগাদিতে। এরপর তিনি হবিগঞ্জে গিয়ে মাওলানা মুদ্দাস্সির আহমদ ও মাওলানা মুসির আলী (র.)এর কাছে কিছুদিন লেখা-পড়া করেন। ওরা দুজনই ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত বড় আলেম। অতঃপর ফিরে আসেন নিজ বাড়িতে এবং ভর্তি হোন পিতার প্রতিষ্ঠিত মুন্সিবাজার সংলগ্ন আয়ারগাঁও মাদ্রাসায়। কিছুদিন এখানে পড়ার পর ১৩৬২ হিজরি মোতাবেক ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দে। খতিব সাহেব সেখানে ১৩৬২ হিজরি মোতাবেক ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে কাফিয়ার কাসে (বর্তমান বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর হিসেবে দশম শ্রেণী) ভর্তি হয়েছিলেন। খতিব সাহেবের নিজের ভাষ্যানুসারে তিনি কাস ছুওম পড়ে গিয়ে এই কাসেই আবার ভর্তি হয়েছেন। দু বছর পর ১৩৬৪ হিজরিতে তিনি তাঁর পিতার অসুস্ততার সংবাদ শুনে বাড়িতে আসেন। আনুমানিক দশ বার দিন পর তাঁর পিতা মাওলানা জহরুল হকের ইন্তেকাল হয়। (ইন্নালিল্লাহি….রাজুন)। পিতার ইন্তেকালের পর এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুনরায় দেওবন্দ চলে যান। তিনি হিজরি ১৩৬৬/৬৭ মোতাবেক ১৯৪৭/৪৮ খ্রিস্টাব্দ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিস, হিজরি ১৩৬৭-৬৮ মোতাবেক ১৯৪৮/৪৯ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে তাফসির এবং হিজরি ১৩৬৮-৬৯ মোতাবেক ১৯৪৯/ ৫০ খ্রিস্টাব্দ শিক্ষাবর্ষে ফনূনাতের কিতাবসমূহ পড়েন এবং খোশকতের মশ্ক করেন।উল্লেখ্য যে, তিনি দাওরায়ে হাদিসের বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর লাভ করে দারুল উলূম দেওবন্দের ইতিহাসে বাংগালি ছাত্রদের মুখ উজ্জল করেছিলেন।
দারুল উলূম দেওবন্দে যারা তাঁর শিক ছিলেনদারুল উলূম দেওবন্দে খতিব মাওলানা উবায়দুল হক (র.) পরিপূর্ণ বোখারি শরিফ এবং তিরমিযি শরিফ প্রথম খণ্ড পড়েন শায়খুল ইসলাম মাওলানা সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানি (র.)এর নিকট, পূর্ণাঙ্গ মুসলিম শরিফ পড়েন মাওলানা ইবরাহিম বলিয়াবি (র.)এর নিকট, পরিপূর্ণ আবু দাউদ শরিফ, তিরমিযি শরিফ দ্বিতীয় খণ্ড, শামায়েলে তিরমিযি ও হেদায়া আখেরাইন পড়েন মাওলানা এযায আলী আমরুহি (র.) নিকট, তাফসিরে বায়যাবি ও তাফসিরে ইবনে কাসির পড়েন মাওলানা ইদরিস কান্দলবি(র.) নিকট (উল্লেখ্য যে, মাওলানা ইদরিস কান্দলবি (র.) দেওবন্দের ছাত্রজীবনে তাঁর পিতা মাওলানা জহরুল হক(র.)এর সহপাঠী ছিলেন), নাসায়ী শরীফ পড়েন মাওলানা ফখরুল হাসান (র.) এর নিকট, ইবনে মাজা শরীফ পড়েন মাওলানা আবদুশ শুকুর দেওবন্দি (র.) এর নিকট, হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা পড়েন মাওলানা কারী মুহাম্মদ তৈয়্যব (র.)এর নিকট, তাফসিরে জালালাইন শরিফ পড়েন হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল (র.)এর নিকট। খতিব মাওলানা উবায়দুল হক দারুল উলূম দেওবন্দে এছাড়াও আরো যাদের কাছে বিভিন্ন কিতাব পড়েছেন বলে জানা যায়, তাঁরা হলে-মাওলানা আবদুস সামী, মাওলানা আবদুল আহাদ, মাওলানা বশীর আহমদ, মাওলানা মিয়াজী মুহাম্মদ সাঈদ গঙ্গোহী, মাওলানা কারী মুহাম্মদ মিয়া, মাওলানা ইশতিয়াক আহমদ ও মাওলানা হাবীবুল্লাহ বিহারী (র.) প্রমুখ।
(চলবে)

About Islam Tajul

mm

এটাও পড়তে পারেন

প্রশ্নপত্র ফাঁস সমাচার, বেফাক ও হাইয়ার দ্বায়!

খতিব তাজুল ইসলাম: কলামের শুরু এবং শেষ নিয়ে বেশ বিব্রতে আছি। পুরাটাই আগুছালো অবস্থা। স্বকীয়তার ...