মঙ্গলবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং
কমাশিসা পরিবারবিজ্ঞাপন কর্নারযোগাযোগ । সময়ঃ সন্ধ্যা ৬:৫৭
Home / কওমি অঙ্গন / জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর : একটি বিশ্বজনীন কওমি মাদরাসা

জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর : একটি বিশ্বজনীন কওমি মাদরাসা

nanupurসকল প্রশংসা সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’লার প্রতি। সকল নবীগণের সর্দার হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর প্রিয় ছাহাবীগণের উপর শান্তি বর্ষিত হোক্ । ইহা প্রসিদ্ধ আছে যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে ইন্দোনিশিয়ার পর দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। এদেশে বসবাসরত পনের কোটি লোকের মধ্যে ৯০% মুসলমান। কিন্তু দূর্ভাগ্যে যে, শিক্ষিত লোকের হার সবচেয়ে কম এবং সংখ্যায় তা ৫০% এর অধিকাংশ জনগোষ্ঠী অত্যন্ত দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। এদেশের মোট  আয়তন এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার । ভবিষ্যৎ প্রবক্তা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর শরু থেকেই বাংলাদেশ উজ্জল খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক ইতিহাসের অধিকারী। অষ্ট শতাব্দীর অর্ধেক সময় থেকেই ইসলামের আবেগে বিদ্ধ হয়ে এদেশ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পরে যায়। এর ফলে মানুষের মনে ইসলামের বীজ বপিত হয়। তের শতাব্দীর শুরুতে ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি এদেশের শাসনকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর দেশের প্রত্যেক প্রান্তে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার শুরু হয়। বৃটিশ ষড়যন্ত্র এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্র“তার কারণে এ অঞ্চলে আর ইসলাম প্রচার দীর্ঘায়িত হয়নি। বৃটিশ ইষ্টইন্ডিয়ান কোম্পানী মুসলমাদের উপর ঔপনিবেশ রীতি যারা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। দীর্ঘস্থায়ী ভাবে না হলেও মুসলমান চিন্তাবিদ ও ত্যাগী ছাত্ররা বৃটিশ ঔপনিবেশের বিরুদ্ধে দাড়ায় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনে ইসলামের আবেগ প্রতিষ্ঠা করে। বৃটিশ শাসকদের রক্ত চক্ষুকে বন্ধ করে তাদের আপ্রাণ চেষ্টায় হারিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্য ধর্মমত্তার রাজনীতিধারা, সংস্কৃতি ইত্যাদি সংরক্ষণ করতে লাগল। মুসলমানদের উপর সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’লার রহমত ব্যতীত তাদেরকে ধংস করতে পারত না। ঐতিহাসিকভাবে দেশের বিভিন্ন অংশের চেয়ে চট্টগ্রাম একটি অন্যতম গুরুত্ব স্থান লাভ করেছে । কারণ ইসলামের দাওয়াত এ দেশের মধ্যে এখান থেকে সূত্রপাত ঘটে। এক সময় ইহার নাম ছিল ইসলামাবাদ এ কারণে আরব ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরে নৌভর করে ধর্ম প্রচারের কাজ সহ তাদের ব্যবসা শুরু করে ছিল। এ বন্দর নগরী হতে সমস্ত দেশে শিক্ষা বিস্তার করে এবং তাদের অবস্থান চায়না পর্যন্ত প্রসার করে। এ ভাবেই চট্টগ্রাম ইসলামের ফটক এবং ইসলাম শিক্ষার কেন্দ্র-বিন্দুতে পরিণত হয়।

বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির মধ্যে ওবাইদিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় একটি আলোকিত স্থান লাভ করেছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ইসলামিক আদর্শ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমপরিমান অর্জনে নেতৃত্ব দেয়। এমনকি প্রশাসনিক ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও একীভূত শিক্ষা ব্যবস্থা ইসলামের সাধারণজ্ঞান,বিজ্ঞানের মধ্য দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে  ইহাকে দেশ-বিদেশে বিখ্যাত করে তোলে। এর ফলে এ বিদ্যালয় হতে পনের হাজার  (১৫০০০) জন ছাত্র উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করে দেশে সর্বত্র প্রত্যেকে যার যার ক্ষেত্র থেকে জাতিগঠনের কার্যক্রমে সর্বত্তম সেবা দিচ্ছে।

একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’লার অশেষ রহমত ও দেশ-বিদেশের হিতৈষী ব্যক্তিগণের দ্বারা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশাতীত অর্জন করতে সম্ভব হয়েছে। যখন ধর্মীয় শিক্ষাদিন কুসংস্কার,শিরক,বিদা’ত পথভ্রষ্ট দ্বারা চারিদিক পরিপূর্ণ ঠিক এ সময় ১৩৭৭ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৭ ঈসায়ী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এ বিপ্লবের সময় ওবাইদিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাতিকুল অবস্থায় থেমে থাকেনি।

জাতির এক  ক্লান্তি লগ্নে  অগণিত ভক্তদের মধ্য থেকে  আল্লামা শাইখ আমীর উদ্দীন নামে এক নিষ্ঠ ভক্ত প্রকৃত ইসলামের ভাবে শিক্ত হয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ প্রতিষ্ঠান গঠনে এগিয়ে এসেছিলেন। আল্লামা আমীর উদ্দীনের মহাপ্রয়াণের পূর্বে  কুতবে আলম আল্লামা শাহ সুলতান আহমদ এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার গুরু দায়িত্ব

পালন করেছিলেন । দায়িত্ব সম্পাদনের ধারাবাহিকতায় আল্লামা সুলতান আহমদ (রহঃ) এর মৃত্যুর ১২ বছর পুর্বে আল্লামা জমির উদ্দীন নামে এক আধ্যাত্মিক সঙ্গী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। এবং তার দোয় পুষ্ট হাতের ছোঁয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি আজকে স্বর্ণে শিখরে পৌঁছেছে । এখন এ প্রতিষ্ঠানটি এক ফলবান  বৃক্ষর মত আমাদের ইসলামের ক্ষুধা নিবারণ করছে এবং ইসলামের পথে আমাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

সূত্র : মাদারাসার ওয়েব সাইট jamiaislamiaobaidia.com থেকে

About Abul Kalam Azad

mm

এটাও পড়তে পারেন

ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই

খতিব তাজুল ইসলাম: বিগত আড়াইশত বছর থেকে চলেআাসা ঐতিহাসকি একটি ধারাকে মুল ধারার সাথে যুক্তকরে ...